দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভের কাছে ড্রোন প্রযুক্তি প্রদর্শনীতে রাশিয়ার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত ১০ জন নিহত ও প্রায় ১০০ জন আহত হয়েছেন। একই দিনে ইউক্রেনের বিভিন্ন এলাকায় পৃথক রুশ হামলায় আরও পাঁচজন নিহত হয়েছেন।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানান, প্রতিরক্ষা খাতের শীর্ষ ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে আয়োজিত ড্রোন প্রযুক্তি প্রদর্শনীতে দিনের বেলায় এ হামলা চালানো হয়। হামলায় প্রায় ১০০ জন আহত হয়েছেন।
এদিকে পূর্বাঞ্চলীয় শহর স্লোভিয়ানস্কে রাশিয়ার গ্লাইড বোমা হামলায় পাঁচজন নিহত হন। শনিবার ভোরে উত্তরাঞ্চলের সুমি শহরেও রুশ হামলায় আরও দুজন নিহত হওয়ার তথ্য নিশ্চিত করেছে ইউক্রেনের সামরিক কর্তৃপক্ষ।
শুক্রবার সন্ধ্যায় জেলেনস্কি জানান, গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ইউক্রেনের ওপর আরও বড় ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে রাশিয়া।
অন্যদিকে শুক্রবার ইউক্রেনের হামলায় রাশিয়ার কিরভ শহরে ছয়জন নিহত ও ২৬ জন আহত হয়েছেন। একই সঙ্গে রাশিয়ার বৃহত্তম অনলাইন খুচরা বিক্রেতা ওয়াইল্ডবেরিজের একাধিক গুদামেও হামলা চালায় ইউক্রেন।
কিয়েভের কাছে হামলার পর ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সেরহি বেসক্রেস্তনভ (ফ্ল্যাশ) ও সেনাবাহিনীর প্রযুক্তি উন্নয়নকর্মী লিউবা শিপোভিচের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হলেও পরে তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেদের নিরাপদ থাকার কথা জানান। বেসক্রেস্তনভ বলেন, নিরাপত্তাজনিত আশঙ্কায় তিনি অনুষ্ঠানে যাননি।
ইউক্রেনের বিমান বাহিনীর মুখপাত্র ইউরি ইহনাত জানান, তিনটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে হামলা চালানো হয়, যার মধ্যে একটি প্রতিহত করা সম্ভব হয়েছে।
হামলার দায় স্বীকার করে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, সেখানে বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলার জন্য ব্যবহৃত ড্রোন প্রদর্শন করা হচ্ছিল। প্রদর্শনীতে ড্রোন প্রস্তুতকারক, ইউক্রেনের ড্রোন ইউনিট এবং রাশিয়ার ভূখণ্ডে হামলার পরিকল্পনায় জড়িত নিরাপত্তা কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন বলেও দাবি করেছে মস্কো।
২০২২ সালে পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ শুরুর পর এ ধরনের ড্রোন প্রদর্শনীতে এটি অন্তত তৃতীয় হামলা। প্রকাশ্যে এমন আয়োজনের নিরাপত্তা নিয়ে ইউক্রেনে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়েছে। জেলেনস্কি ঘটনার তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে কে এ আয়োজনের অনুমোদন দিয়েছিলেন এবং কী ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল, তা খতিয়ে দেখছে দেশটির প্রসিকিউটর জেনারেলের কার্যালয়।
এদিকে জেলেনস্কি দাবি করেছেন, ইউক্রেনের হামলায় কিরভের একটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যেখানে রাশিয়ার যুদ্ধবিমান ও ক্ষেপণাস্ত্রের যন্ত্রাংশ তৈরি হতো।
রাশিয়ার ওয়াইল্ডবেরিজের গুদামেও সাম্প্রতিক হামলাগুলো দেশটির সরবরাহ ব্যবস্থায় প্রভাব ফেলেছে। ইউক্রেনের দাবি, এসব লজিস্টিক কেন্দ্রের মাধ্যমে রুশ সেনাবাহিনীর জন্য সামরিক সরঞ্জাম সংগ্রহ করা হয়।
আগামী সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র সফরে গিয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের কথা রয়েছে জেলেনস্কির। হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ইউক্রেন-রাশিয়া শান্তি আলোচনা পুনরুজ্জীবিত করতেই এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।
এদিকে রোমানিয়ার প্রেসিডেন্ট নিকুসর দান জানিয়েছেন, শুক্রবার দেশটির আকাশসীমা লঙ্ঘনকারী একটি রুশ ড্রোন ভূপাতিত করেছে রোমানিয়ার একটি এফ-১৬ যুদ্ধবিমান।
সূত্র: বিবিসি
এমএস/